শ্রমিক নেতা মরহুম শাহাজান শিকারীর আজ ষষ্ঠ মৃত্য বার্ষিকী

আজ ০৫ মার্চ, আজ সেই বিবর্ণ দিন, আজ থেকে ০৬ বছর আগে মোংলার হাজার হাজার মানুষ ইয়াতিম হয়েছিলেন, হারিয়ে ছিলেন তাদের ভরসার স্হল, তাদের প্রিয় অভিবাবক মরহুম শাহজাহান শিকারী সাহেবকে। 




সেই হারানোর বেদনায় আজও ডুকরে কেঁদে ফেরে হাজার হাজার গরীব, দুঃখী, অসহায়, মেহনতি জনতা। মরহুম শাহজান শিকারী সাহেব রাজনৈতিকভাবে দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে একাধারে ২৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

পাশাপাশি তিনি মোংলা পোর্ট পৌরসভার ০২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে একটানা ৩০ বছর এবং পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ১৪ মাস দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

তিনি মোংলা পোর্ট পৌর আওয়ামী লীগ এর সভাপতি হিসেবে আমৃত্যু ১৯ বছর সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া মোংলা বন্দর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও মোংলা নাগরিক কমিটির সভাপতি হিসেব আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন।  

তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বাসী অবিচল, নির্ভিক একজন যোদ্ধা হিসেবে আজীবন নিরলস কাজ করেছেন। 

১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ এর জনতার মঞ্চ, অসহযোগ আন্দোলন, ২০০৬/০৭/০৮ এর গনআন্দোলন ও ২০১৪ সালের গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে দক্ষিণবঙ্গ তথা বাংলদেশের দ্বিতীয় সামুদ্রীক বন্দর মোংলাকে সব সময় আওয়ামী লীগ এর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন সর্বদা। 

তিনি মোংলার আপামোর জনতাসহ দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রাণের নেতা ও অভিবাবক ছিলেন। তার জীবদ্দশায় কখনোই মোংলার রাজনীতি   ভারসাম্যহীন হয়নি। কখনোই আগত, স্বাগত আর হাইব্রীডরা মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি।  

তার মৃত্যুর পরই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে মোংলার রাজনীতি, উত্থান হয় বিভিন্ন বর্নচোরা আগত স্বাগতদের। জৌলুস হারায় মোংলার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক অঙ্গন। হাজার হাজার মানুষ হারিয়েছে পথের দিশা, রাজনৈতিকভাবে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিক্ষীত, সাহসী, ত্যাগী শত শত নেতা কর্মীরা। 

আজ আর নালিশ করার জায়গা নেই! বিচার করার লোক নেই! আমার পিতার এই দীর্ঘ বর্নাঢ্য সংগ্রামী রাজনৈতিক জিবনে যদি কখনো কোন কারনে জেনে বা না জেনে আপনাদের মনে কোন প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে আমি তার সন্তান হিসেবে আপনাদের সকলের পায়ে হাত দিয়ে বিনম্রভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা দয়াকরে আমার পিতাকে নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন। 

তিনি তার জীবনে শুধু দিয়েই গিয়েছেন, বিনিময়ে পেয়েছিলেন তিরস্কার, বঞ্চনা আর   অবহেলা। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো লাখো মানুষের হৃদয় জয় করা অমর ভালোবাসা, যা আজও সমাজের পরতে পরতে বিদ্যমান। আমরা সত্যিই সাধারন প্রিয় জনতার কাছে আমৃত্যু কৃতঞ্জ। 

ক্ষমতা, অর্থ-সম্পদ, প্রভাব খুবই সাময়িক। এগুলো ক্ষণস্হায়ী। মানুষের ভালোবসাই মূল অর্জন। প্রমানিত সেই পরম ভালোবাসায় আমার পিতার শেষ যাত্রায় সামিল হয়েছিলেন আগনিত লাখো মানুষ। আর এটাই হলো আমার বাবার এহকাল ও পরকালের সমৃদ্ধ অর্জন। আমরা একজন কর্মে মৃত্যুঞ্জয়ী পিতার গর্বিত সন্তান। এটাই আমাদের চলার পথের পাথেও। মৃত্যুর পর একজন মানুষের ক্ষমতা, সম্পদ, অহংকার, প্রভাব কিছুই সাথে নিয়ে যেতে পারেননা। সাথে নিয়ে যান মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা। আর সদকায় জারিয়া হিসেবে সেই দোয়া চলমান থাকে। ভালো কাজই মানুষকে মৃত্যুর পরও বাঁচিয়ে রাখে, অমরত্ব দান করে মানুষের হৃদয়ে।  

আজও প্রতিনিয়ত, প্রতিটি মুহূর্তে চরম রাজনৈতিক দৈন্যতায় হাজার হাজার মানুষ মরহুম শাহজাহান শিকারী সাহেবের অনুপস্থিতি অনুভব করেন। কখনো মনেমনে, আবার কখনো সরবে বারবার বলে ওঠেন " আজ যদি শাহজাহান শিকারী বেঁচে থাকতেন, তাহলে এমনটা তিনি হতে দিতেন না"! 

এর নামই শুণ্যতা, এর নামই ভালোবাসা। আমি ও আমার পরিবার শুধু নয়, হাজার হাজার মানুষ আজ নীরবে নিভৃতে রাজনিতীকে বিদায় জানিয়েছেন। কারন ভরসা আর আস্হার জায়গা না থাকলে, আর যা ই হোক, অন্ততো রাজনিতী করা যায় না। যারা আছেন তাদের জন্য সর্বদা শুভ কামনা রইলো। 

বিনয়ের সাথে আরো একটি অনুরোধও রইলো, শুধু অর্থ আর ক্ষমতা নয়, দয়াকরে মানুষের ভালোবাসাও অর্জন করার চেষ্টা করুন। কারন এই ভালোবাসাই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল মানুষের হৃদয়পটে মরহুম শাহজাহান শিকারী সাহেব এর মতো। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলআমীন আমার পিতার সকল গুনাহ ও কবরের আযাব ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস এর মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

লেখকঃ
এ এইচ মিলন শিকারী ,শাহাজান শিকারীর জেষ্ঠ্য পুত্র ।  
সভাপতি, মোংলা উপজেলা শ্রমিক লীগ 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url